অদ্য ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ০৭:৩০ ঘটিকায় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ব্যাঙ্কুয়েট হলে ৩য় এশিয়ান ইয়ুথ গেমস এবং ৬ষ্ঠ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা এবং অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওএ'র সম্মানিত সভাপতি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিওএ'র বিদায়ী মহাসচিব জনাব সৈয়দ শাহেদ রেজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিওএ'র নব-নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, গেমসের শেফ দ্য মিশনগণ, প্রশিক্ষক, টিম অফিসিয়াল এবং পদকজয়ী ক্রীড়াবিদগণসহ গেমসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ক্রীড়াবিদগণ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিওএ'র মহাসচিব জনাব মোঃ জোবায়েদুর রহমান রানা। তিনি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী সারা বছর ব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি বিওএ'র সভাপতি মহোদয়কে বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
অতঃপর ৩য় এশিয়ান ইয়ুথ গেমসের শেফ দ্য মিশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হুমায়ূন কবীর, এসইউপি (বার), এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি তাঁর বক্তব্যে গেমসে অংশগ্রহণে অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, "প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই"।
৬ষ্ঠ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের শেফ দ্য মিশন এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) জনাব মোঃ সেলিম ফকির উক্ত গেমসের শেফ দ্য মিশন মনোনীত করার জন্য বিওএ-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের খেলাধুলার মান উন্নয়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে তিনি সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম তাঁর বক্তব্যে সকল ক্রীড়াবিদদের পদক অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনায় অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের অলিম্পিক কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি মাননীয় যুব এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা জনাব আসিফ নজরুলের সহযোগিতা প্রদানের সদিচ্ছা সম্পর্কে সকলকে অবগত করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি গেমসে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং দলের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান এবং সকলের সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশে বিশ্বমানের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারবো মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি যুব সমাজকে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি তবে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল দেশ ও জাতি গঠন করা সম্ভব হবে।
গত ২২-৩১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ৩য় এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল এবং বাংলাদেশ মহিলা কাবাডি দল বোঞ্জ পদক অর্জন এবং গত ৭-২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ ইসলামিক সলিডারিটি গেমস টেবিল টেনিস মিক্সড ডাবলসে খই খই সাই মারমা এবং মোঃ জাভেদ আহমেদ সিলভার পদক, ভারোত্তোলনে মার্জিয়া আক্তার ইকরা ক্লিন এন্ড জার্ক, স্নেচ এবং কম্বাইন্ড ক্যাটাগরিতে মোট ৩টি ব্রোঞ্জ এবং উশুতে মোসাঃ শিখা খাতুন ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। বিওএ'র আর্থিক পুরস্কার নীতিমালা অনুযায়ী বিওএ'র সম্মানিত সভাপতি নিম্নোক্ত হারে খেলোয়াড় এবং কোচদের অর্থ পুরস্কার দেন।
১। ৩য় এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত কাবাডি (বালক) এবং কাবাডি (বালিকা) দলকে ৮ (আট) লক্ষ হারে মোট ১৬ লক্ষ টাকা এবং দলের সাথে সংশ্লিষ্ট কোচদের ৩.২০ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৯.২০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
২। ৬ষ্ঠ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসে মিক্সড ডাবলসে পদকপ্রাপ্ত ২জন ক্রীড়াবিদকে ১.৫ লক্ষ টাকা হারে মোট ৩.০০ লক্ষ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কোচকে ৬০ হাজার টাকা, ভারোত্তোলণে ৩টি ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়কে ২ লক্ষ টাকা হারে মোট ৬.০ লক্ষ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কোচ কে ১.২০ লক্ষ টাকা এবং উশুতে ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ২.০ লক্ষ টাকা এবং কোচ ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ১৩.২০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সবশেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শেফাউল কবীর
এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি
মহাপরিচালক
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন